দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম এখনো চড়া। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামে ওঠানামার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক কথিত ভবিষ্যদ্বাণী। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের আর্থিক সংকট দেখা দিলে স্বর্ণের দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর এই পূর্বাভাস নাকি দিয়ে গিয়েছিলেন বুলগেরীয় রহস্যবাদী বাবা ভাঙ্গা।
তবে এই দাবির পেছনে প্রামাণ্য ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাবা ভাঙ্গা এমন নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এমন কোনো প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি। তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কোনো লিখিত রেকর্ডও জানা নেই। ফলে তার নামে প্রচলিত অনেক বক্তব্যই অন্যের বর্ণনা ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখার ওপর নির্ভরশীল।
বিভিন্ন অনলাইন প্রতিবেদনে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট বা নগদের তীব্র সংকট দেখা দিলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমতে পারে। তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এর ফলে স্বর্ণের দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভারতের বাজার নিয়ে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি প্রতিবেদনে আরও নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার থেকে ২ লাখ ৮২ হাজার রুপিতে উঠতে পারে। অন্য একটি দাবিতে সম্ভাব্য দাম প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার রুপি বলা হয়েছে।
তবে এসব কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস নয়। কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে যুক্ত করা অনুমানমাত্র। ফলে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত বাজার পূর্বাভাসের বদলে অনুমাননির্ভর দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পূর্বাভাস রয়েছে। জে পি মরগ্যানের বৈশ্বিক গবেষণা বিভাগ ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৬ হাজার ডলার এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তা ৬ হাজার ৩০০ ডলারের দিকে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আর্থিক উদ্বেগ, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের চাহিদাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে জে পি মরগ্যান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তিত হলে এই পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে।
এদিকে ইউবিএসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের দিকে যেতে পারে। ডয়চে ব্যাংকও ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রেখেছে। সেপ্টেম্বরের এক বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সাম্প্রতিক দরপতন অনেকটাই শেষ হয়ে থাকতে পারে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে অবশ্য স্বর্ণের দাম একটানা বাড়েনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে দামে ওঠানামা দেখা গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি বলা হয়েছে।
কে এই বাবা ভাঙ্গা?
বাবা ভাঙ্গার আসল নাম ভাঙ্গেলিয়া পানদেভা দিমিত্রোভা। ১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া এই বুলগেরীয় নারী অন্ধ রহস্যবাদী, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ও ভেষজবিদ হিসেবে পরিচিতি পান। তার জীবন সম্পর্কে প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান।
পরবর্তী সময়ে তার নামে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা, চেরনোবিল বিপর্যয়, রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যু, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি, ব্রেক্সিট এবং আইএসের উত্থানের মতো ঘটনাও রয়েছে।
তার সমর্থকদের কেউ কেউ দাবি করেন, তার প্রায় ৮৫ শতাংশ ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কোনো লিখিত নথি পাওয়া যায় না। ফলে বর্তমানে তার নামে প্রচলিত অনেক ভবিষ্যদ্বাণী তিনি আদৌ করেছিলেন কি না, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তাই ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়বে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো দামে পৌঁছাবে, এমন দাবি বাবা ভাঙ্গার নামে ছড়ালেও সেটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার মতো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া পূর্বাভাসও ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এবং তা পরিবর্তিত হতে পারে।
/অ